ভারতের জাতীয় পতাকা: ২৫টি প্রশ্নোত্তর
১. প্রশ্ন: ভারতের জাতীয় পতাকাকে কী বলা হয়?
উত্তর: ভারতের জাতীয় পতাকাকে “তিরঙ্গা” বলা হয়, যার অর্থ তিন রঙা পতাকা।
২. প্রশ্ন: ভারতের জাতীয় পতাকায় কয়টি রং রয়েছে?
উত্তর: এতে তিনটি রং রয়েছে — গেরুয়া, সাদা এবং সবুজ।
৩. প্রশ্ন: পতাকার উপরের রঙটি কী?
উত্তর: উপরের রঙটি গেরুয়া (saffron)।
৪. প্রশ্ন: পতাকার মাঝের রঙটি কী?
উত্তর: মাঝের রঙটি সাদা।
৫. প্রশ্ন: পতাকার নিচের রঙটি কী?
উত্তর: নিচের রঙটি সবুজ।
৬. প্রশ্ন: পতাকার মাঝে যে চাকা আছে সেটিকে কী বলা হয়?
উত্তর: সেটিকে অশোক চক্র বলা হয়।
৭. প্রশ্ন: অশোক চক্রে কয়টি আড় আছে?
উত্তর: অশোক চক্রে ২৪টি আড় (spokes) রয়েছে।
৮. প্রশ্ন: পতাকার অনুপাত কত?
উত্তর: পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ৩:২।
৯. প্রশ্ন: ভারতের জাতীয় পতাকা কে নকশা করেছিলেন?
উত্তর: পিঙ্গলি ভেঙ্কাইয়া (Pingali Venkayya) পতাকাটি নকশা করেছিলেন।
১০. প্রশ্ন: পতাকার গেরুয়া রঙ কী নির্দেশ করে?
উত্তর: গেরুয়া রঙ ত্যাগ ও সাহসের প্রতীক।
১১. প্রশ্ন: পতাকার সাদা রঙ কী নির্দেশ করে?
উত্তর: সাদা রঙ শান্তি ও সত্যের প্রতীক।
১২. প্রশ্ন: পতাকার সবুজ রঙ কী নির্দেশ করে?
উত্তর: সবুজ রঙ সমৃদ্ধি ও জীবনের প্রতীক।
১৩. প্রশ্ন: অশোক চক্র কী নির্দেশ করে?
উত্তর: অশোক চক্র ন্যায়, অগ্রগতি ও চিরগতির প্রতীক।
১৪. প্রশ্ন: ভারতের জাতীয় পতাকা প্রথম কবে গৃহীত হয়েছিল?
উত্তর: ২২ জুলাই, ১৯৪৭ সালে পতাকাটি আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়।
১৫. প্রশ্ন: পতাকায় ব্যবহৃত রঙগুলি কোন ধরনের কাপড়ে তৈরি হয়?
উত্তর: পতাকাটি খাদি (khadi) কাপড়ে তৈরি হয়।
১৬. প্রশ্ন: ভারতের পতাকায় অশোক চক্র কোথা থেকে নেওয়া হয়েছে?
উত্তর: এটি অশোকের সারনাথ স্তম্ভের সিংহস্তম্ভ থেকে নেওয়া হয়েছে।
১৭. প্রশ্ন: পতাকা ব্যবহারের নিয়ম কে নির্ধারণ করে?
উত্তর: “Flag Code of India” বা “ভারতের পতাকা বিধি” দ্বারা নির্ধারিত হয়।
১৮. প্রশ্ন: পতাকা উল্টোভাবে ওড়ানো কি অপরাধ?
উত্তর: হ্যাঁ, জাতীয় পতাকাকে অসম্মান করা আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ।
১৯. প্রশ্ন: পতাকাটি রাতেও ওড়ানো যায় কি?
উত্তর: হ্যাঁ, তবে তা সঠিকভাবে আলোকিত থাকতে হবে।
২০. প্রশ্ন: স্বাধীনতার আগে পতাকার রূপ কেমন ছিল?
উত্তর: বিভিন্ন সময়ে পতাকার রূপ পরিবর্তিত হয়েছে; ১৯২১ সালে পিঙ্গলি ভেঙ্কাইয়ার নকশা মূল ভিত্তি ছিল।
২১. প্রশ্ন: পতাকা তৈরির অনুমোদনপ্রাপ্ত সংস্থা কোনটি?
উত্তর: কর্ণাটকের হুবলির “খাদি গ্রামোদ্যোগ” সংস্থা পতাকা তৈরির অনুমোদনপ্রাপ্ত।
২২. প্রশ্ন: পতাকা স্পর্শ করার সময় কী ধরনের সম্মান দেখানো উচিত?
উত্তর: পতাকা মাটিতে স্পর্শ করা বা পোশাক হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না; সবসময় সম্মান দেখাতে হবে।
২৩. প্রশ্ন: জাতীয় পতাকা কবে সর্বোচ্চভাবে উত্তোলন করা হয়?
উত্তর: স্বাধীনতা দিবস (১৫ আগস্ট) ও প্রজাতন্ত্র দিবস (২৬ জানুয়ারি)।
২৪. প্রশ্ন: পতাকা অর্ধনমিত (half-mast) কখন ওড়ানো হয়?
উত্তর: জাতীয় শোকের দিনে, যেমন কোনো মহান ব্যক্তির মৃত্যু হলে।
২৫. প্রশ্ন: পতাকা কি ধর্মীয় প্রতীক?
উত্তর: না, এটি ধর্মনিরপেক্ষ — ভারতের ঐক্য ও গৌরবের প্রতীক।
ভারতের জাতীয় সংগীত — ২৫টি প্রশ্নোত্তর
১. প্রশ্ন: ভারতের জাতীয় সংগীতের নাম কী?
উত্তর: ভারতের জাতীয় সংগীতের নাম “জন গণ মন”।
২. প্রশ্ন: ভারতের জাতীয় সংগীত কে রচনা করেছেন?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারতের জাতীয় সংগীত রচনা করেছেন।
৩. প্রশ্ন: জাতীয় সংগীতটি কোন ভাষায় লেখা হয়েছে?
উত্তর: এটি বাংলা ভাষায় লেখা হয়েছে।
৪. প্রশ্ন: “জন গণ মন” কবিতাটি প্রথম কোথায় গাওয়া হয়েছিল?
উত্তর: এটি প্রথম গাওয়া হয়েছিল ১৯১১ সালে কলকাতার ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে।
৫. প্রশ্ন: “জন গণ মন” জাতীয় সংগীত হিসেবে কবে গৃহীত হয়?
উত্তর: ২৪ জানুয়ারি, ১৯৫০ সালে এটি ভারতের জাতীয় সংগীত হিসেবে গৃহীত হয়।
৬. প্রশ্ন: জাতীয় সংগীতের মোট কয়টি স্তবক আছে?
উত্তর: মূল গানটির ৫টি স্তবক রয়েছে, তবে প্রথম স্তবকটি জাতীয় সংগীত হিসেবে গৃহীত হয়েছে।
৭. প্রশ্ন: জাতীয় সংগীত গাইতে কত সময় লাগে?
উত্তর: সম্পূর্ণ জাতীয় সংগীত গাইতে ৫২ সেকেন্ড সময় লাগে।
৮. প্রশ্ন: জাতীয় সংগীতের সংক্ষিপ্ত সংস্করণ কত সেকেন্ডের?
উত্তর: সংক্ষিপ্ত সংস্করণটি ২০ সেকেন্ডের।
৯. প্রশ্ন: “জন গণ মন” সংগীতের সুর কে নির্ধারণ করেন?
উত্তর: সুরও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই নির্ধারণ করেন।
১০. প্রশ্ন: “জন গণ মন” এর প্রথম লাইন কী?
উত্তর: “জন গণ মন অধিনায়ক জয় হে”।
১১. প্রশ্ন: জাতীয় সংগীত কোন কোন ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে?
উত্তর: এটি হিন্দি, ইংরেজি, তামিলসহ প্রায় সব ভারতীয় ভাষায় অনুবাদ হয়েছে।
১২. প্রশ্ন: “জন গণ মন” কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল?
উত্তর: এটি প্রথম প্রকাশিত হয় “তত্ত্ববোধিনী” পত্রিকায়।
১৩. প্রশ্ন: “জন গণ মন” এর ইংরেজি অনুবাদ কে করেছিলেন?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই ইংরেজি অনুবাদ করেছিলেন, যার নাম “The Morning Song of India”।
১৪. প্রশ্ন: জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় মানুষ কীভাবে দাঁড়ায়?
উত্তর: সবাই সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করে।
১৫. প্রশ্ন: জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় কথা বলা বা নড়াচড়া করা কি উচিত?
উত্তর: না, কোনো অবস্থাতেই কথা বলা বা নড়াচড়া করা উচিত নয়।
১৬. প্রশ্ন: জাতীয় সংগীত গাওয়ার নিয়ম কে নির্ধারণ করে?
উত্তর: ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় (Ministry of Culture) এই নিয়ম নির্ধারণ করে।
১৭. প্রশ্ন: জাতীয় সংগীতের মূল ভাব বা অর্থ কী?
উত্তর: এটি ভারতের ঐক্য, শান্তি, শক্তি ও জাতীয় গৌরবের প্রতীক।
১৮. প্রশ্ন: জাতীয় সংগীতে কতটি প্রধান রাজ্যের নাম ইঙ্গিত করা হয়েছে?
উত্তর: এতে পাঁচটি প্রধান অঞ্চল বা রাজ্যের নাম ইঙ্গিত করা হয়েছে — পাঞ্জাব, সিন্ধু, গুজরাট, মরাঠা, দ্রাবিড়, উদয়গিরি ও বঙ্গ।
১৯. প্রশ্ন: “জন গণ মন” কোন কাব্যগ্রন্থের অংশ?
উত্তর: এটি “গীতাঞ্জলি”-র অংশ নয়; এটি স্বতন্ত্রভাবে লেখা একটি দেশাত্মবোধক গান।
২০. প্রশ্ন: “জন গণ মন”-এর অর্থ কী?
উত্তর: “জন গণ মন” অর্থ “জনগণের মনোবল বা জনগণের নায়ক”।
২১. প্রশ্ন: জাতীয় সংগীত কোথায় কোথায় গাওয়া হয়?
উত্তর: এটি গাওয়া হয় বিদ্যালয়, সরকারি অনুষ্ঠান, স্বাধীনতা দিবস, প্রজাতন্ত্র দিবস ও অন্যান্য জাতীয় উৎসবে।
২২. প্রশ্ন: জাতীয় সংগীত অসম্মান করলে কী হয়?
উত্তর: জাতীয় সংগীতের অপমান করা আইনের দৃষ্টিতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
২৩. প্রশ্ন: জাতীয় সংগীত গাওয়া বা বাজানোর সময় কোন বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করা যায়?
উত্তর: সাধারণত ব্যান্ড, অর্কেস্ট্রা বা হারমোনিয়াম ব্যবহার করা হয়।
২৪. প্রশ্ন: জাতীয় সংগীতের মধ্যে কী ধরনের ভাব প্রকাশ পায়?
উত্তর: এতে দেশপ্রেম, ঐক্য, ভক্তি ও জাতীয় গৌরবের অনুভূতি প্রকাশ পায়।
২৫. প্রশ্ন: ভারতের জাতীয় সংগীত কবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়?
উত্তর: ১৯৫০ সালে, ভারতের সংবিধান কার্যকর হওয়ার সাথে সাথে জাতীয় সংগীত হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়।


No comments:
Post a Comment